নিজস্ব প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলার রায় শিগ্গিরই আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় মিয়ানমারের দায় নির্ধারণ, চলমান নিপীড়ন বন্ধ, ভুক্তভোগীদের ন্যায় বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একাধিক রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে লিখিত ও মৌখিক শুনানি সম্পন্নসহ মামলাটি ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে। আদালতের রায় শিগগিরই প্রত্যাশিত।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য (সিলেট-৫) এমরান আহমদ চৌধুরীর প্রশ্নের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
এমরান আহমদ চৌধুরীর প্রশ্নের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, ইউএনএইচসিআর’র (১৩ এপ্রিল) সর্বশেষ তথ্য মতে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন।
মন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে বহুমুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এ সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিক দায়িত্ব পালন, আন্তর্জাতিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে অটল অবস্থান ও সক্রিয় কার্যক্রম বজায় রেখেছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান।
কক্সবাজার-৩ আসনের লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে বসবাসরত ১২ লাখ রোহিঙ্গার দ্রুততার সাথে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমানা সুরক্ষিত রাখা এবং মানব পাচার, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এনসিপির সংসদ সদস্য (কুড়িগ্রাম-২) আতিকুর রহমান মুজাহিদের প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার তার ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে সার্ককে সক্রিয় করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছ। সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপারে সার্কভুক্ত দেশের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, আঞ্চলিক সংলাপ এবং সম্মিলিত রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে সার্ককে পুনরায় কার্যকর করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সক্রিয়, গঠনমূলক ও দূরদর্শী কূটনৈতিক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।
সরকার দলের (জামালপুর-২) সুলতান মাহমুদ বাবুর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডায় দু’জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও ফ্লোরিডারস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিহতের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রেখেছে। নিহতদের দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে।
নোয়াখালী-১ আসনের এ এম মাহবুব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান জানান, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।
সরকার দলের (কিশোরগঞ্জ-৫) শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদান স্বাভাবিক করতে ভারতকে আহ্বান জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে।
পভাররাষ্ট্রমন্ত্রী তার রত সফরের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই সফরে সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে আমার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও সংহতিতে প্রতিফলিত এবং তা অভিন্ন মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক সংযোগ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের দৃঢ় সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারতের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক সম্মান ও আস্থা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।